রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
মোহাম্মদ ফারুক:
সড়ক পরিবহণ সেক্টরে চাঁদাবাজী বন্ধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রশাসন, মালিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এর ত্রিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিক কল্যাণ/সার্ভিস চার্জ আদায়ে সহযোগিতা প্রদান এবং গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতা মো: সেলিম ও আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদানের দাবীতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্যবাহী সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্যবাহী সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এর সদস্য সচিব মোঃ আবুল খায়ের। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন পরিষদেরন আহবায়ক রবিউল মাওলা। উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্যবাহী সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিক সম্মেলনে দাবী আদায় কঠোর কর্মসুচী ঘোষনার পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়ে বলা হয়, নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিক কল্যাণ / সার্ভিস চার্জ আদায় করার বিষয়টি প্রশাসন, মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধিদের ত্রিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত। এই খাতে আদায়কৃত অর্থ থেকে সংগঠনের অফিস পরিচালনা,অফিস ভাড়া, ষ্টাপদের বেতন/ ভাতা,দূর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা, সংগঠনের মামলা পরিচালনা, সর্বোপরি শ্রমিকদের মৃত্যুতে এককালীণ অর্থ প্রদানসহ সব কিছু নির্ভর করে।সার্ভিস চার্জ আদায় করতে না দেওয়ার অর্থ দাঁড়ায় গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকলাপের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ। আমরা এ ধরণের হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারিনা। এই ধরণের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আমারা অবিলম্বে চট্টগ্রাম জেলাট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির সদস্য মো: সেলিম ও কর্মী আলমগীরের মুক্তি ও সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি এবং ত্রিপক্ষিয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিক কল্যাণ/সার্ভিসচার্জ আদায়ে কোন ধরনের বাধা, প্রতিবন্ধকতার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধসহ যে কোন ধরণের আন্দোলনের ডাক দিতে চাইনা। কিন্তু গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকলাপের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ ও গ্রেফতারকৃত চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির সদস্য মো: সেলিম ও কর্মী আলমগীর এর সহ সানি:শর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করা না হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্যবাহী সড়ক পরিবহণ শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫ জেলায় তথা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িতে কঠোর আন্দোলনের যে কোন কর্মসূচী ঘোষনা করলে তারজন্য আমাদেরকে দায়ী করা যাবে না।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন,রেজি:নং-চট্ট-১৯৪৯, চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়ন,রেজি:নং-চট্ট-২০৮৮,চট্টগ্রাম বিভাগীয় ট্যাংক লরী শ্রমিক ইউনিয়ন,রেজি:নং-চট্ট-২২৩৭,চট্টগ্রাম আন্ত:জেলা (রা:খা:রা:) ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন,রেজি:নং-চট্ট-১০৬৬,কক্সবাজার জেলা সড়ক পরিবহন ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজি: নং-চট্ট-১১০৬, ক´বাজার ট্রাক.মিনি ট্রাক (পিকআপ) শ্রমিক ইউনিয়ন,রেজি:নং-চট্ট-১০৮৫,রাঙ্গামাটি জেলা সড়ক পরিবহন ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজি:নং-চট্ট-১০৭৯,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজি:নং-চট্ট-২১৫৬,বান্দবান জেলা ট্রাক ও মিনি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন,রেজি:নং-চট্ট-২৩৩২ নিয়ে গঠিত বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্যবাহী সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এর পক্ষ থেকে দেশের রাজনীতির এক কঠিন সময়ে আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমাদের সাথে সংযুক্ত প্রত্যেকটি সংগঠন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন সেক্টরের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাথে সংযুক্ত। সড়ক পরিবহন সেক্টরে আমরা আইনানুগভাবে ট্রেড ইউনিয়ন করি। প্রচলিত শ্রম আইন ও বিধি মোতাবেক আমাদের সংগঠন গুলি পরিচালিত হয়। সড়ক পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধ, সড়কে শৃংখলা প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বকারী সড়ক পরিবহন মালিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মালিক শ্রমিক সংগঠনের নির্দেশিকা অনুযায়ী নিদিষ্ট ষ্ট্যান্ডে, লোডিং আনলোডিং পয়েন্টে শ্রমিক কল্যাণ বা সার্ভিসচার্জ আদায়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ত্রিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশে মালিক শ্রমিকেরপক্ষ থেকে শ্রমিক কল্যাণ/সার্ভিস চার্জ আদায় করার ক্ষেত্রে কোন বাধা না থাকলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামে কথিত বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় প্রশাসন কতৃক বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। অথচ কথিত বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশননামীয় উক্ত সংগঠনটি জায়গায় জায়গায় সার্ভিস চার্জ আদায় করছে। কথিত বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশন সংগঠনটি একটি ফেডারেশন। সাধারণ শ্রমিকেরা শ্রমিক ইউনিয়নেই সংগঠিত হয়। শ্রমিক ইউনিয়ন গুলি সংগঠিত হয়ে থাকে জাতীয় বা ট্রেড ভিত্তিক ফেডারেশনে। ফেডারেশন কোন শ্রমিকের কাছ থেকে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের চাঁদা/ সার্ভিস চার্জ আদায়ের আইনগত অধিকার রাখে না। ফেডারেশন বেসিক ইউনিয়ন গুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং তদারকি করে মাত্র। কিন্তু কথিত বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশন সংগঠনটির চট্টগ্রামে কোন বেসিক ইউনিয়ন না থাকা সত্বেও জায়গায় জায়গায় মোটা অংকের অবৈধচাঁদা আদায় করে থাকে। কথিত বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশন বর্তমানে চট্টগ্রামে বেসিক ইউনিয়ন গুলি দখল করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও বিভিন্ন সময়ে শক্তি প্রয়োগ করতে চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ০৫/১২/২০২৩ ইং তারিখে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির সদস্য মো: সেলিম ও কর্মী আলমগীরকে ডিবি পুলিশ কতৃক উদ্দ্যেশ্য মূলকভাবে বন্দর থানাধীন নিউমুরিং এলাকায় তাদের বাসা থেকে গভীররাতে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে শ্রমিক কল্যাণ/সার্ভিস চার্জ আদায়ের সাজানো মামলায় বন্দর থানা কতৃক আদালতে সোপর্দ পূর্বক জেলহাজতে প্রেরণ করে। আমরা আশংকা করছি এই গ্রেফতার অভিযান আরো প্রসারিত হতে পারে।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রশাসন, মালিক, শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রামের পণ্য পরিবহন সেক্টরে সার্ভিস চার্জ আদায়ে বিভিন সময়ে প্রশাসনিক বাধার কারণে সার্ভিস চার্জ আদায়সহ ১০ দফা দাবী আদায়ের আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিগত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং তারিখে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দাবী গুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করেন এবং নির্দিষ্ট ষ্ট্যান্ডে, লোডিং আনলোডিং পয়েন্টে সার্ভিস চার্জ আদায় এবং যত্রতত্র সার্ভিস চার্জ বা শ্রমিক কল্যাণ আদায় না করার নির্দেশ প্রদান করেন। এমনকি তিনি মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়কেও সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
আপনার মন্তব্য লিখুন